শিবিরের ‘ফর্মুলায়’ তরুণদের মাদক থেকে বিরত রাখা সম্ভব: নুরুল ইসলাম

ছবি সংগৃহীত

 

অনলাইন ডেস্ক : বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি নুরুল ইসলাম বলেছেন, ‘ইসলামী ছাত্রশিবিরের কাছে যুবসমাজকে শতভাগ মাদক থেকে দূরে রাখার ‘এক্সপেরিমেন্টাল ট্রুথ ফর্মুলা’ রয়েছে, যা দেশের সকল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে প্রয়োগ করলে তরুণ সমাজকে শতভাগ মাদক থেকে বিরত রাখা সম্ভব।’

তিনি বলেন, ‌‘আমরা সকল ছাত্র সংগঠনের প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানাই—আপনারা দলীয় প্রমোশনের সস্তা হাতিয়ার হিসেবে মাদককে প্রশ্রয় না দিয়ে এর বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি অবলম্বন করুন।

আন্তর্জাতিক মাদকবিরোধী দিবস উপলক্ষে শুক্রবার (২৬ জুন) সকালে আয়োজিত এক ক্যাম্পেইনে এ কথা বলেন তিনি। ‘সেভ দ্য ইয়ুথ, সেভ দ্য ন্যাশন’ প্রতিপাদ্যে সপ্তাহব্যাপী মাদকবিরোধী ক্যাম্পেইন ‘ইয়ুথ অ্যাগাইনস্ট ড্রাগস’ এর অংশ হিসেবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় ‘রান অ্যাগাইনস্ট ড্রাগস’ অনুষ্ঠিত হয়।

উদ্বোধনী সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি নূরুল ইসলাম। এতে বক্তব্য রাখেন ঢাকা-৫ আসনের সংসদ সদস্য কামাল হোসেন, ছাত্রশিবিরের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি মোহাম্মদ ইয়াসিন আরাফাত ও জাহিদুল ইসলাম, ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি জেনারেল সিবগাতুল্লাহ, কেন্দ্রীয় দপ্তর সম্পাদক আজিজুর রহমান আজাদ এবং কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদক ও ডাকসু জিএস এসএম ফরহাদসহ আরও অনেকে।

নুরুল ইসলাম বলেন, মাদকের মতো ভয়াবহ ব্যাধি ‍দূর করতে সম্মিলিত প্রচেষ্টা দরকার। এ ক্ষেত্রে সরকারের সদিচ্ছা ও উদ্যোগ সবার আগে প্রয়োজন। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য, মাদকের এই সিন্ডিকেটের সঙ্গে বর্তমান সরকারের মানুষজনই জড়িত হয়ে পড়েছে, তাদের ছত্রছায়ায় এই মাদকের বিস্তার ঘটছে।

তিনি বলেন, ‘মাদক একটি সামাজিক ব্যাধি। এই ব্যাধিতে আক্রান্ত হয়ে পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্র ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে। সরকার মাদক নিয়ন্ত্রণে অধিদপ্তর গঠন করেছে, পুনর্বাসন কেন্দ্রও তৈরি করেছে। কিন্তু বাস্তবতা হলো- বাংলাদেশে মাদকের ভয়াবহতা কমার বদলে দিন দিন বাড়ছে। দেশে বর্তমানে ৮৩ লাখ মাদকসেবী রয়েছে এবং মোট ফৌজদারি অপরাধের ৩৮ শতাংশই সংঘটিত হয় মাদককে কেন্দ্র করে। প্রতিবছর মাদকের কারণে ৪৪১ মিলিয়ন ডলার অবৈধভাবে দেশ থেকে পাচার হয়ে যাচ্ছে এবং প্রায় ৫ লাখ মানুষ মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘মাদকের বিরুদ্ধে কথা বলতে গিয়ে প্রতিনিয়ত শত শত মানুষ আহত হচ্ছে, হত্যার শিকার হচ্ছে। লাখ লাখ যুবক যৌবন হারাচ্ছে। শুধু মাদক গ্রহণ করার কারণে পারিবারিক কলহ, পারিবারিক বিবাহবিচ্ছেদ ঘটছে। মাদক গ্রহণ করাকে কেন্দ্র করে হিতাহিত জ্ঞান হারিয়ে পরিবারের সদস্যদের হত্যা করছে। মাদক গ্রহণের টাকা না দিতে পারার কারণে বাবা তার সন্তানকে হত্যা করছে, সন্তান তার বাবার গায়ে হাত তুলছে, মায়ের গায়ে হাত তুলছে।’

ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি জেনারেল সিবগাতুল্লাহ দেশের ক্রমবর্ধমান মাদক সংকট মোকাবিলায় কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ, মাদক পাচারের পথ বন্ধ, তরুণ সমাজকে মাদকমুক্ত রাখা এবং শারীরিকভাবে সুস্থ ও সক্ষম প্রজন্ম গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। একই সঙ্গে তিনি এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে ছাত্রশিবিরের মাদকবিরোধী সচেতনতামূলক কার্যক্রম ও যুবসমাজের শারীরিক সক্ষমতা বৃদ্ধিমূলক উদ্যোগ অব্যাহত রাখার প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেন।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ



সর্বশেষ আপডেট



» জুলাইয়ে সড়কে ঝরেছে ৪১৮ প্রাণ, বেশি মৃত্যু বাইক দুর্ঘটনায়

» ট্রাইব্যুনালে লতিফ-রুপাসহ ৯ আসামি, ফের শুনানি ৩ সেপ্টেম্বর

» সংবিধান সংশোধন সংসদেই সম্ভব, রাজপথে বলে লাভ নেই : গয়েশ্বর চন্দ্র রায়

» ডারউইন টেস্টে বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের বিজয়ে বিরোধীদলীয় নেতার অভিনন্দন

» এলেক্স ইমন হত্যা মামলার ২ নম্বর আসামি শাহরুখসহ তিনজন গ্রেপ্তার

» মেট্রোপলিটন পুলিশের অভিযানে গত ২৪ ঘণ্টায় ৫১১ জন গ্রেফতার

» সাংবাদিকরা হবেন তথ্য কমপ্লেক্সের প্রথম ব্যবহারকারী : তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী

» তারেক রহমানের ভারত সফরের অনুকূল পরিবেশ নেই: পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র

» ইগো দেখানোর কিছু নেই-সবাইকে নিয়ে বসুন: শিশির মনির

» যেকোনো মূল্যে ৭০ অনুচ্ছেদ সংধোশন করতে হবে: ১১ দলীয় জোট

 

সম্পাদক ও প্রকাশক :মো সেলিম আহম্মেদ,

ভারপ্রাপ্ত,সম্পাদক : মোঃ আতাহার হোসেন সুজন,

নির্বাহী সম্পাদকঃ আনিসুল হক বাবু

 

ইমেল: [email protected]

ফোন নাম্বার : ০১৫৩৫১৩০৩৫০,

Desing & Developed BY PopularITLtd.Com
পরীক্ষামূলক প্রচার...

শিবিরের ‘ফর্মুলায়’ তরুণদের মাদক থেকে বিরত রাখা সম্ভব: নুরুল ইসলাম

ছবি সংগৃহীত

 

অনলাইন ডেস্ক : বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি নুরুল ইসলাম বলেছেন, ‘ইসলামী ছাত্রশিবিরের কাছে যুবসমাজকে শতভাগ মাদক থেকে দূরে রাখার ‘এক্সপেরিমেন্টাল ট্রুথ ফর্মুলা’ রয়েছে, যা দেশের সকল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে প্রয়োগ করলে তরুণ সমাজকে শতভাগ মাদক থেকে বিরত রাখা সম্ভব।’

তিনি বলেন, ‌‘আমরা সকল ছাত্র সংগঠনের প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানাই—আপনারা দলীয় প্রমোশনের সস্তা হাতিয়ার হিসেবে মাদককে প্রশ্রয় না দিয়ে এর বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি অবলম্বন করুন।

আন্তর্জাতিক মাদকবিরোধী দিবস উপলক্ষে শুক্রবার (২৬ জুন) সকালে আয়োজিত এক ক্যাম্পেইনে এ কথা বলেন তিনি। ‘সেভ দ্য ইয়ুথ, সেভ দ্য ন্যাশন’ প্রতিপাদ্যে সপ্তাহব্যাপী মাদকবিরোধী ক্যাম্পেইন ‘ইয়ুথ অ্যাগাইনস্ট ড্রাগস’ এর অংশ হিসেবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় ‘রান অ্যাগাইনস্ট ড্রাগস’ অনুষ্ঠিত হয়।

উদ্বোধনী সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি নূরুল ইসলাম। এতে বক্তব্য রাখেন ঢাকা-৫ আসনের সংসদ সদস্য কামাল হোসেন, ছাত্রশিবিরের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি মোহাম্মদ ইয়াসিন আরাফাত ও জাহিদুল ইসলাম, ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি জেনারেল সিবগাতুল্লাহ, কেন্দ্রীয় দপ্তর সম্পাদক আজিজুর রহমান আজাদ এবং কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদক ও ডাকসু জিএস এসএম ফরহাদসহ আরও অনেকে।

নুরুল ইসলাম বলেন, মাদকের মতো ভয়াবহ ব্যাধি ‍দূর করতে সম্মিলিত প্রচেষ্টা দরকার। এ ক্ষেত্রে সরকারের সদিচ্ছা ও উদ্যোগ সবার আগে প্রয়োজন। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য, মাদকের এই সিন্ডিকেটের সঙ্গে বর্তমান সরকারের মানুষজনই জড়িত হয়ে পড়েছে, তাদের ছত্রছায়ায় এই মাদকের বিস্তার ঘটছে।

তিনি বলেন, ‘মাদক একটি সামাজিক ব্যাধি। এই ব্যাধিতে আক্রান্ত হয়ে পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্র ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে। সরকার মাদক নিয়ন্ত্রণে অধিদপ্তর গঠন করেছে, পুনর্বাসন কেন্দ্রও তৈরি করেছে। কিন্তু বাস্তবতা হলো- বাংলাদেশে মাদকের ভয়াবহতা কমার বদলে দিন দিন বাড়ছে। দেশে বর্তমানে ৮৩ লাখ মাদকসেবী রয়েছে এবং মোট ফৌজদারি অপরাধের ৩৮ শতাংশই সংঘটিত হয় মাদককে কেন্দ্র করে। প্রতিবছর মাদকের কারণে ৪৪১ মিলিয়ন ডলার অবৈধভাবে দেশ থেকে পাচার হয়ে যাচ্ছে এবং প্রায় ৫ লাখ মানুষ মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘মাদকের বিরুদ্ধে কথা বলতে গিয়ে প্রতিনিয়ত শত শত মানুষ আহত হচ্ছে, হত্যার শিকার হচ্ছে। লাখ লাখ যুবক যৌবন হারাচ্ছে। শুধু মাদক গ্রহণ করার কারণে পারিবারিক কলহ, পারিবারিক বিবাহবিচ্ছেদ ঘটছে। মাদক গ্রহণ করাকে কেন্দ্র করে হিতাহিত জ্ঞান হারিয়ে পরিবারের সদস্যদের হত্যা করছে। মাদক গ্রহণের টাকা না দিতে পারার কারণে বাবা তার সন্তানকে হত্যা করছে, সন্তান তার বাবার গায়ে হাত তুলছে, মায়ের গায়ে হাত তুলছে।’

ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি জেনারেল সিবগাতুল্লাহ দেশের ক্রমবর্ধমান মাদক সংকট মোকাবিলায় কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ, মাদক পাচারের পথ বন্ধ, তরুণ সমাজকে মাদকমুক্ত রাখা এবং শারীরিকভাবে সুস্থ ও সক্ষম প্রজন্ম গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। একই সঙ্গে তিনি এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে ছাত্রশিবিরের মাদকবিরোধী সচেতনতামূলক কার্যক্রম ও যুবসমাজের শারীরিক সক্ষমতা বৃদ্ধিমূলক উদ্যোগ অব্যাহত রাখার প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেন।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ



সর্বশেষ আপডেট



সর্বাধিক পঠিত



 

সম্পাদক ও প্রকাশক :মো সেলিম আহম্মেদ,

ভারপ্রাপ্ত,সম্পাদক : মোঃ আতাহার হোসেন সুজন,

নির্বাহী সম্পাদকঃ আনিসুল হক বাবু

 

ইমেল: [email protected]

ফোন নাম্বার : ০১৫৩৫১৩০৩৫০,

Design & Developed BY ThemesBazar.Com